কুলাউড়ায় মডেল মসজিদের উদ্বোধন, জুমার...
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জুমার নামাজ আদায়ের...
এমপি’র দুই রাজনৈতিক সচিবের বিবৃতি
ছবি সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতা শেখ সাইফুল আলম সিদ্দিকী শেফুল সম্প্রতি বিএনপিতে যোগদান করেছেন মর্মে নিজের ফেসবুক পোস্টে প্রকাশ করার পর থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দেশ-বিদেশে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
বিএনপির ত্যাগী নেতাদের বক্তব্য, একজন চিহ্নিত পদবীধারী আওয়ামীলীগ নেতা কোন দলীয় প্রক্রিয়া ছাড়া কিভাবে ফুল দিয়ে দলে যোগদান করেছেন মর্মে বিবৃতি দিতে পারেন। সাইফুল সিদ্দিকীর ফেসবুক স্ট্যাটাসের পর শনিবার সকালে বিএনপির সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে সাইফুল সিদ্দিকী যে বিএনপিতে যোগদান করেননি সেই বিষয়টি তিনি পরিস্কার করেছেন। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল জানান, সাইফুল সিদ্দিকী প্রবাস থেকে দেশে এসে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে বিএনপি অফিসে এসেছিলেন।
এদিকে শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব-১ এ এস এম জামান মতিন ও রাজনৈতিক সচিব-২ মো. রেদোয়ান খাঁনের যৌথ স্বাক্ষরিত এক স্পষ্টীকরণ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে তারা উল্লেখ করেন, আমেরিকা প্রবাসী সাইফুল আলম সিদ্দিকী এমপি শওকতুল ইসলাম মহোদয়ের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেছেন মর্মে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এমপি মহোদয়ের পক্ষ থেকে আমরা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি যে, সংবাদটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে এমপি মহোদয়ের সাথে ছিল এটি নিছক সৌজন্যে সাক্ষাৎ মাত্র।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর নির্দেশনা ছাড়া দলে নতুন করে যোগদান করানোর কোন সুযোগ নেই। আমরা এই সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণকে এইসকল অপপ্রচারের বিষয়ে সজাগ থাকার আহবান জানাচ্ছি।
জানা যায়, গত ২৮ অক্টোবর রাতে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকুর উপস্থিতিতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজলের সাথে সাক্ষাৎ করেন প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতা সাইফুল আলম সিদ্দিকী। এসময় উপস্থিত উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক রেদওয়ান খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ চৌধুরী, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার মুহিবুর রহমান মলাই, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুক্তাদির মনু প্রমুখ।
সাইফুল সিদ্দিকী বিএনপিতে যোগ দেন বলে নিজে তাঁর ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন। সেখানে তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাঁর এই যোগদান অনুষ্ঠানে ভাটেরা ইউনিয়ন বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী ছাড়াও কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ দলের উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে, সাইফুল সিদ্দিকীর বিএনপিতে যোগদানের পর ভাটেরা ইউনিয়ন শ্রমিকদলের পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই চিত্র ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সাইফুল আলম সিদ্দিকীর ফেসবুক পোস্টের পর দেশ ও প্রবাসে থাকা জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ অনেকের মাঝে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে শনিবার সকালে এমপি শওকতুল ইসলাম তাঁর ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, “কয়েকদিন থেকে ফেসবুকে একটা সংবাদ আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আপনাদের সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি আমেরিকা থেকে সাইফুল আলম সাহেব আমার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে ফুল নিয়ে বিএনপি অফিসে আসেন এবং সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের নির্দেশ অনুযায়ী বিএনপিতে যোগদান প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ।
এদিকে আওয়ামীলীগ নেতার বিএনপিতে যোগদান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী। যোগদানের খবরের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সিদ্দিক হোসেন রুবেল তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, “২০১৮ সালের পর থেকে কুলাউড়া বিএনপিতে আমার চেয়ে বেশি টাকা কেউ খরচ করেনি আমার মনে হয়। বর্তমানে দল ক্ষমতায়, আপনারা নিরাপদে আওয়ামী পুনর্বাসন করতেছেন, তাহলে আমার ভাগটা দিয়া দিয়েন, যেহেতু দলে ইনভেস্ট করছি, এখন তো আমার প্রাপ্য আমাকে বুঝাইয়া দিয়েন।”
যুবদল নেতা মো. ফয়েজ আহমদ বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সদস্য সচিব এর প্রতি বিনীত অনুরোধ করছি তদন্ত কমিটি করে যে বা যারা আওয়ামী দোসরদের যোগদান করিয়েছেন তাদের কে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অপরাধে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি। তৃণমূলের রক্তক্ষরণ হচ্ছে, এটা তৃণমূল নেতৃবৃন্দের দাবী।
কুলাউড়া থানা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও লন্ডন বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান তাঁর ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, নতুন কোন দোসর আমদানী না করে ১৭ বছর যারা জুলুম নির্যাতনের শিকার ছিল তাদেরকে আগলে রাখুন নতুবা সময়ের ব্যবধানে হারিয়ে যাবেন!।
সাবেক ছাত্রদল নেতা প্রবাসী সৈয়দ আবেদ বলেন, কুলাউড়া বিএনপির কোয়ালিটি একটা সময় পর্যন্ত অসাধারণ ছিল যদিও কোয়ান্টিটির বিষয়ে কিঞ্চিৎ সমস্যা ছিল। দুর্ভাগ্য! এখন কোয়ান্টিটির কোন সমস্যা নাই কিন্তু কোয়ালিটি সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এভাবে মালাবদল করলে আমাদের রুচিতে বাঁধে।
সাবেক ছাত্রদল নেতা, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কয়ছর রশীদ তাঁর ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, দলীয় বিষয়ে এমপি মহোদয়ের উপর সকল দায়, জবাবদিহিতা কেন? নেতৃবৃন্দ কি ঠুটো জগন্নাথ?
কুলাউড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, কানাডা প্রবাসী মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিন তাঁর ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, কুলাউড়ার বিএনপি সঠিক পথে নেই। যাদের জন্য জেল জুলুম তাদের কেমন করে মেনে নিবো? এমপি সাহেব ভুল পথে হাঁটছেন। আপনার ডানে-বামে যারা তারা আপনাকে হয়তো ইচ্ছে করে ভুল পথে হাঁটাচ্ছে।
এ বিষয়ে সাইফুল আলম সিদ্দিকী শেফুল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩১ দফা এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নানা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম দেখে বিএনপিতে যোগদান করেছি। তিনি বলেন, আমার জন্মমাটি ভাটেরা ইউনিয়নে নির্বাচন করতে ৪০ বছরের আমেরিকার জীবনে ইতি টেনে দেশে এসেছি। যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াত করায় আমাকে আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও উলামালীগের সভাপতি বলে অ্যাখায়িত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রকৃত সত্য হলো, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা কাজী মনির উদ্দিন। ২০১৬ সালে তিনি মারা গেলে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে একজন ইমাম হিসেবে আমাকে দাওয়াত করা হলে আমি সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কোরআন তেলাওয়াত করেছি। বিভিন্ন সময় অনেক দলের নেতাদের সাথে সামাজিক অনুষ্ঠানে ছবি তুলেছি। কিন্তু এটাকে পুঁজি করে বর্তমানে আমাকে জড়িয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে আমি সেটির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল বলেন, যোগদান করতে হলে একটা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেতে হয়। তবে বিএনপিতে সাইফুল সিদ্দিকীর যোগদান যে নয় এ বিষয়ে এমপি সাহেব বিবৃতি দিয়েছেন। সাইফুল সিদ্দিকী প্রবাস থেকে দেশে এসে বিএনপি অফিসে ফুল নিয়ে আমাদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে ছবি তুলেছেন। ছবি তুলা এবং ছবি ছাড়া এখন দেশে একটা ফ্যাশন হয়ে গেছে। আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে কোন বিবৃতি দেইনি। এ বিষয়ে দলীয়ভাবে যদি ব্যাখা চাওয়া হয় তাহলে আমরা অফিসিয়ালি জবাব দিব।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু বলেন, দলের চেয়ারম্যাানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে যোগদান প্রক্রিয়া বন্ধ। তিনি শুধু আমাদের স্বাগত জানাতে ফুল নিয়ে অফিসে এসেছিলেন। ভাটেরা ইউনিয়নের দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাইফুল সিদ্দিকী ও জব্বার সিদ্দিকী বিএনপির কেউ নন।
এসএ/সিলেট