সিলেটে নয়া দিগন্তের ২২তম বর্ষপূর্তি উদযাপন

নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মতো রাজনৈতিক ঐক্য ও সংহতি জরুরি

post-title

ছবি সংগৃহীত

নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মতো রাজনৈতিক ঐক্য ও সংহতি জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন সিলেটের রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী নেতারা। তাঁরা বলেছেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুসংহত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে।

একই সঙ্গে অতীতের মতো দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্রের পক্ষে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

জাতীয় দৈনিক নয়া দিগন্তের ২২তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সিলেটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে সিলেট প্রেসক্লাবের আমিনুর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ও বাংলাদেশ এডিটরস কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির সদস্য মুকতাবিস উন নূর।

শীর্ষ নিউজ ও গ্লোবাল টিভি সিলেটের প্রতিনিধি কবি হেলাল নির্ঝরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির  ও বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামির সিলেটের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এসময় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও বক্তব্যে জাতিকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে সংবাদপত্রকে ভূমিকা রাখার আহবান জানান। অনুষ্ঠানে দুই পর্বে কেক কেটে সবাইকে নিয়ে বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়।

নয়া দিগন্তের এই আয়োজনে সরকারি ও বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দের বক্তব্য গণমাধ্যমের প্রসঙ্গ  ছাড়িয়েও রাজনৈতিক অম্ল মধুর উত্তাপে আলোচিত হয়ে উঠে।

বিএনপির নেতারা বলেন, ফ্যাসিবাদ আমলে কারাগারে জামায়াত বিএনপির নেতারা একই টিফিনের খাবার ভাগ বাটোয়ারা করে খেয়েছেন।একই সেলে গাদাগাদি করে থেকেছেন। দুদলের কারা নির্যাতিত নেতাদের মধ্যে এক অপূর্ব মিল মহব্বত ও ভালোবাসা ছিল। আজ সেটা হারিয়ে যাবে কেনো? তারা সরকারি দল বিরোধী দলের ঐক্য ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনার আহবান জানান। তারা বিরোধী দল সবখানে দলীয়করণ করা হচ্ছে বলে যে অভিযোগ করছে তা সঠিক নয় বলে দাবি করেন। তারা বলেন, সরকারের সমালোচনা করেন গণতান্ত্রিক ভাষায়। কারো কোনো উস্কানীমূলক আচরণে জড়িয়ে পড়া ঠিক নয়।

বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দ বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ এর পরিবর্তে এখন সবার আগে বিএনপির কর্মসূচি চলছে। ক্ষমতায় গিয়ে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের রক্তের  চেতনা ভুলে গেছে সরকার।  অনেক সময় সমালোচনাও সহ্য করতে পারছে তারা। আগের ফ্যাসিবাদের মতো অনেক কিছু আবার ফিরে আসছে। এরকম পরিস্থিতি কারো জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।

দুদলের নেতারাই বক্তব্যে বাংলাদেশে আর আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে দেয়া হবে না অঙ্গীকার করেন।

দৈনিক নয়া দিগন্তকে ফ্যাসিবাদের নিপীড়ন ও জুলুমের শিকার সংবাদপত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেন দুদলের নেতারা । তারা বলেন,  যেভাবে নয়া দিগন্ত অতীতে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে  দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছে আগামীতে গণতান্ত্রিক পরিবেশে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে হবে। সরকারি দলের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাংলাদেশ গড়ার সহযাত্রী হিসেবে নয়া দিগন্তকে দেখতে চান বলে উল্লেখ করেন।

প্রবীণ সম্পাদক মুকতাবিস উন নূর দু’দলের নেতৃবৃন্দকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে  জনগণের মনের ভাষা বুঝতে হবে।  তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। দেশের মানুষ একটা পরিবর্তন চেয়েছে। সরকারি দলের নেতাদের সেটা বেশি করে উপলব্ধি করতে হবে।

স্বাগত বক্তব্যে নয়া দিগন্তের সিলেট ব্যুরো চিফ আবদুল কাদের তাপাদার বলেন, নয়া দিগন্তের শহীদ সাংবাদিক এটিএম তুরাব হত্যা মামলা আড়াই বছর ধরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফাইল বন্দী হয়ে আছে। আসামি পুলিশের শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তারা সরকারের জামাই আদরে দিন পার করছে। তিনি অবিলম্বে তুরাব হত্যার বিচার কার্যক্রম  শুরু করার দাবি জানান।

বক্তব্যে একই দাবি জানান, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন।

বর্ষপূর্তি উদযাপনের এই জমজমাট আয়োজনে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন ও পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস এর পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসাইন চৌধুরী, যমুনা পেট্রোলিয়ামের পরিচালক কবি সালেহ আহমদ খসরু, মহানগর জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও জৈন্তাপুরের  সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ও সিটি কর্পোরেশনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী নুরুল ইসলাম বাবুল, সিলেট প্রেসক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও দৈনিক সিলেট বাণীর নির্বাহী সম্পাদক এম এ হান্নান, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, সিলেটের  অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ রানা, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সিলেট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেলুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহানগর সভাপতি মাওলানা ইমরান আলম,কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ-কেমুসাস এর সাধারণ সম্পাদক কথা সাহিত্যিক সেলিম আউয়াল, ইসলামি ছাত্র শিবির সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম সাজু,সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. হোসাইন আহমদ, সিলেট মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি বদরুদ্দোজা বদর, সিলেট প্রেসক্লাব সদস্য ও বিশ্ব বাংলা সম্পাদক কবি মুহিত চৌধুরী, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম আলো, বিএনপি নেতা আলমগীর আসাদ, বাংলাদেশ সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা ও মদনমোহন সরকারি কলেজের সিনিয়র শিক্ষক মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, মদনমোহন সরকারি কলেজের সিনিয়র শিক্ষক লেফটেন্যান্ট মনির উদ্দিন, প্রাচীন সাহিত্য সংগঠন সাইক্লোন এর সভাপতি ভ্রমণ কাহিনি লেখক মোয়াজ আফসার, দৈনিক সংগ্রামের ব্যুরো চিফ কবির আহমদ, দৈনিক মানবকন্ঠের সিলেট ব্যুরো চিফ ও সিলেট বেতারের মহানগর সংবাদদাতা আমজাদ হোসাইন, দৈনিক ইনকিলাবের সিলেট ব্যুরো প্রধান ও সিলেট প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ফয়সাল আমিন,বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন, প্রাচীন সাহিত্য সংগঠন সিলেট লেখিকা সংঘের সাধারণ সম্পাদক কবি ও সংগঠক ইশরাক জাহান জেলী, প্রকাশনি সংস্থা চৈতন্য এর কর্ণধার রাজিব চৌধুরী,  দৈনিক সিলেটের ডাক এর সিনিয়র রিপোর্টার কাউসার চৌধুরী, দৈনিক বণিক বার্তার সিলেট প্রতিনিধি নূর আহমদ, দৈনিক একাত্তরের কথার বিশেষ প্রতিনিধি রাজু আহমদ, দৈনিক জালালাবাদের সিনিয়র রিপোর্টার মুহিবুর রহমান, দৈনিক বাংলা বাজার পত্রিকার সিলেট ব্যুরো প্রধান জুলফিকার তাজুল, বড়লেখা সমিতি সিলেট এর অফিস সম্পাদক আতাউর রহমান,  দৈনিক ভোরের ডাক এর সিলেট ব্যুরো চিফ আবদুল হান্নান, সিলেট বেতারের সংবাদদাতা ফারুক আহমদ, দুর্নীতিমুক্তকরণ ফোরাম বাংলাদেশ এর সদস্য সচিব মকসুদ হোসেন, দৈনিক নয়া দিগন্তের ওসমানী নগর সংবাদদাতা মুহিব হাসান, দোয়ারাবাজার সংবাদচদাতা সোহেল মিয়া, গোয়াইনঘাট সংবাদদাতা আমির উদ্দিন, সিলেট প্রেসক্লাবের সদস্য শেখ আবদুল মজিদ, দৈনিক সিলেট বাণীর স্টাফ রিপোর্টার এম এ  ওয়াহিদ চৌধুরী, বালাগঞ্জ উপজেলার সাবেক সংবাদদাতা রেজাউল ইসলাম স্বপন,সাংবাদিক এমদাদুর রহমান জিয়া, সাংবাদিক ইসা তালুকদার। সাংবাদিক সোহেল মিয়ার কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু হয়।

শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নয়া দিগন্ত সিলেট ব্যুরোর স্টাফ রিপোর্টার এমজেএইচ জামিল, স্টাফ ফটোগ্রাফার জয়নাল আবেদীন আজাদ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পেরে প্রতিনিধি ও  ফুল পাঠিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম পিপিএম সেবা, সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী সাদেক যাবের।

এসএ/সিলেট