যুক্তরাজ্যে শিক্ষার্থীদের ভিসায়...
যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে ইচ্ছুক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্টুডেন্ট ভিসার আর্থিক শর্তে পরিবর্তন আসছে। আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ভিসার আবেদনে...
২০২৭-২০২৯ সালের অভিবাসন লক্ষ্যমাত্রাও ঘোষণা
প্রতীকি ছবি
শাহজাহান সেলিম বুলবুল, কানাডা: কানাডায় অবস্থানরত সর্বোচ্চ ২ লাখ অস্থায়ী বাসিন্দাকে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে রূপান্তরের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার।
নতুন এ উদ্যোগের আওতায় সর্বোচ্চ ১ লাখ কর্মী এবং আরও ১ লাখ মানবিক বিবেচনাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ উদ্যোগের জন্য যোগ্যতা ও আবেদনপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
গত ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার অটোয়ায় হাউস অব কমন্সে ২০২৬ সালের ফেডারেল বাজেট উপস্থাপন করেন কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন। বাজেটের পাশাপাশি ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত তিন বছরের নতুন অভিবাসন লক্ষ্যমাত্রাও ঘোষণা করা হয়। এতে কানাডায় আগে থেকেই বসবাসরত অস্থায়ী বাসিন্দাদের স্থায়ী হওয়ার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন অভিবাসীর সংখ্যা নির্ধারণের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
বাজেট ও কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক দপ্তর (আইআরসিসি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২ লাখ মানুষের স্থায়ী বসবাসের উদ্যোগটি দুটি ভাগে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১ লাখ কর্মীকে প্রাদেশিক ও আঞ্চলিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থায়ী বাসিন্দা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে প্রভিনশিয়াল নমিনি প্রোগ্রাম (পিএনপি), এক্সপ্রেস এন্ট্রি এবং নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন কর্মসূচিতে আগে থেকে আবেদন করা ব্যক্তিদের বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও এ উদ্যোগের আওতায় আসতে পারেন।
অন্যদিকে, মানবিক বিবেচনায় আরও সর্বোচ্চ ১ লাখ মানুষকে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তি, নির্দিষ্ট মানবিক কর্মসূচির আবেদনকারী এবং কিছু পারিবারিক পুনর্মিলনসংক্রান্ত আবেদন এ উদ্যোগের আওতায় বিবেচিত হতে পারে। আইআরসিসি জানিয়েছে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে আগের মানবিক প্রতিশ্রুতি পূরণ, পরিবারগুলোকে একসঙ্গে রাখা এবং আবেদনজট কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।
এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে চার বছরে ৩০ কোটি ২৩ লাখ কানাডীয় ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে সরকার। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বছরগুলোর জন্য আরও ৯ কোটি ৬ লাখ ডলারের অর্থায়নের প্রস্তাব রয়েছে। তবে কারা এ সুযোগ পাবেন, কীভাবে আবেদন করতে হবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় প্রার্থী নির্বাচন করা হবে-এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা এখনো প্রকাশিত হয়নি।
নতুন অভিবাসন পরিকল্পনায় ২০২৭, ২০২৮ ও ২০২৯-প্রতিবছর ৩ লাখ ৮০ হাজার স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। একই সময়ে প্রতিবছর ৩ লাখ ৭০ হাজার নতুন অস্থায়ী বাসিন্দা কানাডায় আসার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অস্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যে ২ লাখ ২০ হাজার কর্মী এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। তবে ২০২৮ ও ২০২৯ সালের লক্ষ্যমাত্রাগুলো পরবর্তী সময়ে পর্যালোচনা করে নিশ্চিত বা পরিবর্তন করা হতে পারে।
বাজেটে অস্থায়ী বিদেশি কর্মী কর্মসূচি (টেম্পোরারি ফরেন ওয়ার্কার প্রোগ্রাম) সংস্কারের প্রস্তাবও রয়েছে। এ কর্মসূচিকে আঞ্চলিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, আবেদন প্রক্রিয়াকরণের সময় কমানো এবং নিয়োগকর্তাদের নিয়ম মানার বিষয়টি জোরদার করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এ সংস্কার বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে পাঁচ বছরে ১৫ কোটি ১৫ লাখ কানাডীয় ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে প্রস্তাবের অর্থায়ন ঘোষণা মানেই নতুন সব নিয়ম কার্যকর হয়ে যাওয়া নয়; বিস্তারিত বাস্তবায়ন নির্দেশনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।
এ ছাড়া অভিবাসন যাচাইপ্রক্রিয়ায় বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ সম্প্রসারণের প্রস্তাব রয়েছে। এতে আঙুলের ছাপ ও মুখের ছবি ব্যবহার করে আরও বেশি ভ্রমণকারীর পরিচয় যাচাই করা হবে। ভিসামুক্ত দেশের যেসব নাগরিক ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) আবেদন করবেন, তাঁদের দূর থেকে মুখের ছবি জমা দেওয়ার নতুন শর্ত চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। পরিচয় যাচাই ও জালিয়াতি প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদনজট কমাতে অতিরিক্ত অর্থায়নের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নির্যাতন, শোষণ বা সমস্যার মুখে পড়া অস্থায়ী বিদেশি কর্মীদের সহায়তায় তহবিল অব্যাহত রাখার প্রস্তাবও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
বাজেটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত কানাডায় নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর আগমন ৭১ শতাংশ, নতুন কর্মীর আগমন ৫৭ শতাংশ এবং আশ্রয়ের আবেদন ৬৮ শতাংশ কমেছে। সরকারের অভিবাসননীতিতে একদিকে নতুন অস্থায়ী বাসিন্দার আগমন নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে কানাডায় আগে থেকেই বসবাস ও কাজ করছেন-এমন ব্যক্তিদের স্থায়ী হওয়ার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তবে নতুন উদ্যোগের ঘোষণা মানেই সব অস্থায়ী বাসিন্দার স্থায়ী হওয়ার নিশ্চয়তা নয়। ওয়ার্ক পারমিট, স্টাডি পারমিট কিংবা এক্সপ্রেস এন্ট্রি প্রোফাইল থাকলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এ সুযোগ পাবেন-এমনটি ভাবার সুযোগ নেই। একইভাবে কর্মীদের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ ১ লাখের উদ্যোগকে অতিরিক্ত ১ লাখ এক্সপ্রেস এন্ট্রি আমন্ত্রণ বা সবার প্রাদেশিক মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার ঘোষণা হিসেবেও দেখা যাবে না। এ বিষয়ে আইআরসিসি ও প্রদেশগুলোর বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশের পর যোগ্যতা ও আবেদনপ্রক্রিয়া স্পষ্ট হবে।
এ অবস্থায় কানাডায় অবস্থানরত অস্থায়ী বাসিন্দাদের বৈধ অভিবাসন-স্ট্যাটাস বজায় রাখা, বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী নিজের যোগ্যতা যাচাই করা এবং আইআরসিসির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা কোনো অভিবাসন এজেন্টের অসমর্থিত দাবির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নেওয়াই নিরাপদ।
এসএ/সিলেট