বিদ্যুৎ সংকট দ্রুত কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছে সরকার: এমপি এমরান চৌধুরী

post-title

ছবি সংগৃহীত

সিলেট-৬ আসনের (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেছেন- শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ৪৮ বছর আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিএনপি ছিল বলেই বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ বার বার এসেছে।

যারই ধারাবাহিকতায় আমরা গত ফেব্রুয়ারিতে ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে ক্ষমতার আসনে পাঠিয়েছি। বর্তমান সরকার, আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর উনি যে কাজগুলো করেছেন, বাংলাদেশ তথা বিশ্বের ইতিহাসে কোনো রাষ্ট্রনায়ক এই ধরণের কোনো কাজ করেন নাই।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গোলাপগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকালে পৌরপয়েন্টে আয়োজিত র‍্যালি পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি নোমান উদ্দিন মুরাদের সভাপতিত্বে ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামের পরিচালনায় সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী আরও বলেন- আমরা জানি, বিদ্যাৎহীনতায় আপনারা অনেক কষ্ট করছেন। কিন্তু একটি কথা বুঝতে হবে, বিগত ১৭ বছর বিদ্যুৎ খাতের প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার উপরে আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ীরা এদেশ থেকে পাচার করে নিয়ে গেছে। বর্তমান সরকারের পক্ষে মাত্র ৬ মাসের মধ্যে এই টাকা কাভার করে বিদ্যুৎ নিরবিচ্ছিন্ন করা অনেকখানি কষ্টসাধ্য ব্যাপার। মূলত বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের টাকা পাচারের জন্যই আজকে আমরা বিদ্যুতের জন্য কষ্ট পাচ্ছি। অথচ তাদের আমলের বিদ্যুৎ-এর বড় বড় ব্যবসায়ীরা কেউ সিঙ্গাপুর, কেউ লন্ডন, কেউ দুবাইয়ে বসে আরাম-আয়েশের জীবনযাপন করছেন পাচার করা টাকাগুলো নিয়ে, আর আমরা বিদ্যুতের জন্য ঘরে ঘরে আজ কষ্ট করছি। তবে ইনশাআল্লাহ, আর সামান্য কিছুদিন সুযোগ দেবেন- অচিরেই আপনাদের সেই বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান বর্তমান সরকার করে দেবেন।

বর্তমান সরকারের উন্নয়নকাজের ফিরিস্তি তুলে ধরে সিলেট- আসনের সাংসদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছেন। কৃষকদের জন্য কার্ড দেবেন, প্রতি মাসে মাসে টাকা দেওয়া হবে, সার্ভিস দেওয়া হবে। বাচ্চাদের জন্য স্কুলে খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। পর্যায়ক্রমে সারা বাংলাদেশের প্রতিটা উপজেলার প্রতিটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সে খাবারের আওতায় আসবে। বাচ্চাদের জন্য ইউনিফর্ম দিয়েছেন। নারীদের জন্য গ্র্যাজুয়েশন পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছেন। সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তাদের জন্য ১০০ ভাগ ডাবল করে তাদের বেতন বৃদ্ধি করেছেন।

তিনি আরও বলেন, এই গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের জনগণ বিপুল ভোটে ধানের শীষকে বিজয়ী করিয়েছেন, তার জন্য আমি আপনাদের কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আপনাদের এই ঋণ আমি শোধ করতে পারব না। তবে আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আপনারা দেখেছেন- এক সেকেন্ডের জন্যও আমার এলাকা ছাড়া আমি কোথাও ব্যয় করি না। আমি চাই আমার এলাকার প্রতিটা নাগরিকের সাথে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকুক। আমি চাই আমার এলাকার প্রতিটা নাগরিক আমার কাছে সরাসরি আসবে ইনশাআল্লাহ। কারণ আমি জানি, অতীতের রেকর্ড থেকে আমরা দেখেছি- এই এমপিদেরকে বিভিন্নভাবে মিসইউজ করা হয়েছে। আমরা চাই জনগণের সাথে আমাদের দলের সম্পর্ক, আমাদের দলের সভাপতি-সেক্রেটারিরা তারা জনগণের সাথে সরাসরি সম্পর্ক রেখেছেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আমাদের উপজেলা-পৌরসভা সমস্ত নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে এই বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জের যত সমস্যা আছে আমরা সমাধান করব ইনশাআল্লাহ। ইতোমধ্যে দেখেছেন- প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা দিয়ে সিলেট থেকে শেওলা পর্যন্ত ৬ লেনের কাজ আগামী মাস থেকে শুরু হবে ইনশাআল্লাহ। শুধু তাই নয়, বাঘা ব্রিজ, কুঁড়ির বাজার ব্রিজ- এই দুইটা ব্রিজের কাজ শেষ পর্যায়ে, ইনশাআল্লাহ আমি আশাবাদী এই বছরের মধ্যে আমরা পার হতে পারব ইনশাআল্লাহ। এছাড়া আমাদের অনেকগুলো ব্রিজের কাজ হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ আমাকে ২ টা বছর সময় দেন, এই বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জের রাস্তাঘাটের কোনো সমস্যা থাকবে না।

দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমাদের দলের কেউ দলের নাম ভাঙিয়ে কোনো ধরনের কোনো অবৈধ কাজ করলে আমি সেটা বরদাশত করব না। এবং আমাদের দলের নেতৃবৃন্দ আমাদের সাথে একমত, উনারাও সেভাবে শক্তভাবে সেটা সামাল দেবেন। কোথাও কোনো সমস্যা হলে অবশ্যই আপনারা আমাদের সভাপতি-সেক্রেটারির সাথে যোগাযোগ করবেন, আমার সাথেও করবেন, আমরা আপনাদের সমস্যা সমাধান করব। বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ বাজে কাজ করলে আমরা তা বরদাশত করব না।

সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন সিলেট  জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও গোলাপগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি মশিকুর রহমান মহি, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি হেলালুজ্জামান হেলাল ও সাধারণ সম্পাদক মনিরউজ্জামান উজ্জল।

এছাড়া সমাবেশে জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর বিভিন্ন স্তরের নেতা বক্তব্য রাখেন।

এর আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালির আয়োজন করা হয়। বিকাল ৪টায় শুরু হওয়া র‍্যালিটি পৌরশহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সমাবেশস্থলে এসে শেষ হয়।

র‍্যালি উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগ সংগঠনগুলোর হাজারো নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

এসএ/সিলেট