শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আসছে নতুন মনিটরিং নীতিমালা: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

post-title

ছবি সংগৃহীত

প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে বিদ্যালয়গুলোর তদারকি জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার ও আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বয়স ও শেখার সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত ও সহজবোধ্য শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কাজ চলছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে নতুন মনিটরিং নীতিমালা তৈরির কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

বুধবার হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার এস এম ফয়সল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) স্কুল ফিডিং কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, হবিগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষার অবস্থান দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন-এমন ধারণা সঠিক নয়। তবে এ জেলার শিক্ষার মান আরও উন্নত করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এস এম ফয়সল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪০০-এর বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়টির কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন করে তিনি মানসম্মত পাঠদান দেখতে পেয়েছেন বলেও জানান।

দেশব্যাপী স্কুল ফিডিং কর্মসূচি প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকার এ কর্মসূচি চালু করেছে এবং আগামী বছরের মধ্যে দেশের সব বিদ্যালয়ে তা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, ডব্লিউএফপি মাধবপুর উপজেলার ১৫০টির বেশি বিদ্যালয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের কর্মসূচির ইতিবাচক দিকগুলো অনুসরণ এবং সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে সরকারি উদ্যোগকে আরও কার্যকর করার সুযোগ রয়েছে।

বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নতুন মনিটরিং নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে। চলতি মাসেই নীতিমালাটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, দেশের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। কোথাও কোথাও রয়েছে অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতা। এসব সমস্যা সমাধানে মডেল স্কুল প্রকল্প, পিডিবি-৫ ও জিপিএস প্রকল্পসহ কয়েকটি উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, আধুনিক ও কার্যকর বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি প্রকল্প শিগগিরই চালু হওয়ার কথা রয়েছে। পিডিবি-৫ প্রকল্পটি ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রাথমিক শিক্ষার শিক্ষাক্রম প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার্থীদের বয়স ও শেখার উপযোগিতা বিবেচনায় আরও উন্নত ও বিজ্ঞানসম্মত কারিকুলাম তৈরির দায়িত্ব জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে (এনসিটিবি) দেওয়া হয়েছে। নতুন শিক্ষাক্রমে এক শিফট ও দুই শিফটে পরিচালিত বিদ্যালয়ের পাঠদানের সময়ের বৈষম্য কমানো, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা ও শিখনসামগ্রী সহজবোধ্য করা এবং নৈতিক শিক্ষা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম ফয়সল, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) হেড অব প্রোগ্রাম জেসি উড, স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের হেড এমা লেফু, মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান, সহকারী পুলিশ সুপার মো. রাফিউর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।

পরে প্রতিমন্ত্রী জগদীশপুর চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।

এসএ/সিলেট