শ্রীহট্ট ব্রাহ্মসমাজের রবীন্দ্র-স্মরণ অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সিলেট সফর ছিল ঐতিহাসিক

post-title

ছবি সংগৃহিত

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, ১৯১৯ সালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সিলেট সফর করেছিলেন। এটিই ছিল তাঁর প্রথম এবং শেষ সফর। নানা কারণেই এটি ছিল একটি ঐতিহাসিক সফর।

​শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শ্রীহট্ট ব্রহ্মমন্দিরে শ্রীহট্ট ব্রাহ্মসমাজের আয়োজনে আয়োজিত রবীন্দ্র-স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

​'তুমি আদিকবি, কবিগুরো তুমি হে' শীর্ষক অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সিলেট আগমনের বিভিন্ন ঐতিহাসিক দিক তুলে ধরেন।

​তিনি বলেন, ১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘স্যার’ উপাধি ত্যাগ করেন। এর চার মাস পর অক্টোবরে তিনি কলকাতা থেকে শিলং আসেন। সেখানে অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রস্তুতি নিলেও সিলেটের বিভিন্ন সংগঠনের আমন্ত্রণে তিনি সেই সফর বাতিল করেন এবং সিলেটে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

​সে সময়কার দুর্গম পথযাত্রার স্মৃতিচারণ করে সিসিক প্রশাসক জানান, তখন শিলং থেকে সিলেট আসার সরাসরি সড়ক ছিল না। চেরাপুঞ্জি ও থারিয়াঘাট হয়ে আসা এই দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হতো। মানুষের পিঠে চড়ে ভ্রমণ করা রবীন্দ্রনাথের পছন্দ না হওয়ায় তিনি আসাম-বেঙ্গল রেলের মাধ্যমে গৌহাটি, লামডিং, বদরপুর ও কুলাউড়া হয়ে বহু ঘুরপথে ১৯১৯ সালের ৫ নভেম্বর ‘শ্রীহট্ট বাজার’ রেলস্টেশনে পৌঁছান।

​তিনি আরও বলেন, সিলেট সফরকালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সিংহবাড়িতে অবস্থান করেন। এটিই ছিল তাঁর প্রথম ও শেষ সিলেট সফর। সে সময় শ্রীহট্টের সৌন্দর্য মুগ্ধ হয়ে তিনি একটি কবিতা রচনা করেছিলেন।

​সিলেটের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় নাগরিক সমাজের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রশাসক বলেন, ২০১৯ সালে সিসিক ও নাগরিক সমাজের উদ্যোগে কবিগুরুর সিলেট আগমনের শতবর্ষ উদযাপন করা হয়েছিল। আজও ব্রাহ্মসমাজ যে স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমাদের পূর্বসূরিদের কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করাই সিলেটকে সম্মানিত করে। এ ধরনের কাজে অতীতে যেভাবে সিটি কর্পোরেশন পাশে ছিল, আগামী দিনেও সেই পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকবে।

​কাজী নজরুল ইসলামের শতবর্ষ উদযাপন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় কবি নজরুল তাঁর জীবনে দুবার সিলেট এসেছিলেন। এ বছর তাঁর প্রথম বা দ্বিতীয় আগমনের শতবর্ষ পূর্ণ হচ্ছে। সকলের পরামর্শ ও সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী চমৎকার অনুষ্ঠানমালা সাজানো হবে।

তিনি বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন জনগণেরই প্রতিষ্ঠান। তাই সিলেটের ভালোমন্দ সব কার্যক্রমে নগরবাসীকে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

​শ্রীহট্ট ব্রাহ্মসমাজের সভাপতি অ্যাডভোকেট বেদানন্দ ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট বিজয়কৃষ্ণ বিশ্বাস।

​অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে একটি আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

এসএ/সিলেট