সিলেটের উন্নয়ন ও বৈষম্য নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে গণদাবী ফোরামের স্মারকলিপি

post-title

ছবি সংগৃহীত

সিলেট বিভাগের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন, দীর্ঘদিনের উন্নয়নবৈষম্য নিরসন এবং আঞ্চলিক অধিকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ২৫ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি পেশ করেছে সিলেট বিভাগ গণদাবী ফোরাম।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে সিলেট নগরীর দরগাগেট এলাকার একটি অভিজাত হোটেলে ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট চৌধুরী আতাউর রহমান আজাদ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভীর কাছে স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ্ সিদ্দিকী, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিমসহ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, মহান ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের অর্থনীতি, প্রবাসী আয় এবং জাতীয় উন্নয়নে সিলেট বিভাগ সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চল উন্নয়নবৈষম্য ও অবহেলার শিকার। সিলেটের প্রবাসী, পর্যটক ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে ২৫টি দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে উত্থাপিত ২৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে প্রথম শ্রেণির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা এবং সেখান থেকে দেশি-বিদেশি যাত্রী ও কার্গো বিমানের আন্তর্জাতিক রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ব্যবস্থা করা।
সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথের সিলেট থেকে আখাউড়া পর্যন্ত বিদ্যমান রেললাইন ব্রডগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তর এবং সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলোর উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করা। সিলেট-ঢাকা রুটে একটি আধুনিক বিরতিহীন ট্রেন চালু করা। পাশাপাশি সিলেট থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত বিরতিহীন আধুনিক ট্রেন চালু এবং বিদ্যমান আন্তনগর ট্রেনগুলোর বগি ও যাত্রীসেবার মান বাড়ানো। সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত ও সম্প্রসারণ করে দ্রুত উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করা।

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সাবাজপুর থেকে জুড়ী, কুলাউড়া, রবিরবাজার, শমশেরনগর, কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল ও শায়েস্তাগঞ্জ পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীত করে জাতীয় মহাসড়কে রূপান্তর করা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত শমশেরনগর বিমানবন্দর থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চালু করা। কুলাউড়া-বড়লেখা-সাবাজপুর রেলপথে পুনরায় ট্রেন চালু করা। সুনামগঞ্জের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে সিলেট-সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনা-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ সড়ক চার লেনে উন্নীত ও সম্প্রসারণ করা।

শমশেরনগরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি স্থাপন এবং আধুনিক অ্যারোনটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা।

জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সুরমা অথবা কুশিয়ারা নদীর নিকটবর্তী সুবিধাজনক স্থানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি স্থাপন করা। এ ঘাঁটির নাম সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের নামে রাখার দাবি জানানো হয়েছে। সিলেটে একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। মৌলভীবাজার জেলা সদরে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা। জালালাবাদ সেনানিবাসে একটি আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা। সিলেটে একটি গার্লস ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া। সিলেটে আন্তর্জাতিক মানের একটি পর্যটন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। সিলেটে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ পুনঃস্থাপন ও প্রতিষ্ঠা করা। সিলেট বিভাগের আবিষ্কৃত সব গ্যাস ও তেলক্ষেত্র থেকে গ্যাস ও তেল উত্তোলন এবং বিতরণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একই সঙ্গে গ্যাস সংযোগ প্রদানের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে বিভাগটির প্রতিটি জেলা ও উপজেলা সদরে আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগ চালু করা। সিলেটে একটি আধুনিক তেল সংরক্ষণাগার ও শোধনাগার এবং গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করা। সিলেট মহানগরীকে বাংলাদেশের ‘আধ্যাত্মিক ও অর্থনৈতিক রাজধানী’ ঘোষণা করে সরকারি গেজেট প্রকাশ করা। প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ সিলেট বিভাগকে বাংলাদেশের পর্যটন অঞ্চল ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা।

সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে পৃথক চারটি অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড), চারটি শিল্পপার্ক এবং চারটি পর্যটনপার্ক স্থাপন করা।

সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, খোয়াই, জুড়ী, কালনী, চেঙ্গের খাল ও পিয়াইনসহ সিলেট বিভাগের ছোট-বড় সব নদী খনন ও ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে নদীপথে যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচলের উপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সিলেট বিভাগের সব জেলা সদর, থানা ও উপজেলা সদর, পর্যটনকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সঙ্গে সংযোগকারী সড়কগুলোর মেরামত, সংস্কার, সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন করা। সিলেটি নাগরী অক্ষরকে সিলেটের আঞ্চলিক লিপি এবং নাগরী ভাষাকে আঞ্চলিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা। পরিবেশ সুরক্ষায় প্রশিক্ষিত পরিবেশ পুলিশ, বন বিভাগ সুরক্ষায় বন পুলিশ বা বনরক্ষী বাহিনী এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশেষায়িত দুর্যোগ প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন করা। পাশাপাশি সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নন-গেজেটেড কর্মকর্তা এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় বা নিজ নিজ জেলার অধিবাসীদের নিয়োগের বাধ্যবাধকতা আরোপে বিধিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা।

স্মারকলিপিতে সিলেট বিভাগ গণদাবী ফোরামের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার সিলেট বিভাগের প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে দীর্ঘদিনের এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

এসএ/সিলেট