সিলেটে ৩৬ ডিগ্রি তাপমাত্রার মধ্যে চলছে ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং

post-title

ছবি সংগৃহীত

সিলেটে ৩৬ ডিগ্রি তাপমাত্রার মধ্যে লোডশেডিং ও বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ মানুষ।

দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে পানি ওঠানোর মোটর চালানো যাচ্ছে না, দেখা দিয়েছে পানির সংকট। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজ ও ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষিত মাছ-মাংস, দুধ, আইসক্রিমসহ বিভিন্ন খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

শ্রাবণ মাস প্রায় শেষ হতে চলেছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় বৃষ্টিপাত একেবারেই কম হয়েছে।  গত ২৪ ঘন্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে মাত্র ১৫ মিলিমিটার! এ অবস্থায় গরম বাড়ছে। মঙ্গলবার সিলেট অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এমন বৈরী শ্রাবণে জনদুর্ভোগ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। ঘন্টায় ঘন্টায় বিদ্যুৎ যাচ্ছে। গেলে আসার আসার কোনো নাম থাকছেনা। এলেও কতসময় থাকবে তা নিয়ে রীতিমতো হতাশায় কাটছে নাগরিক জীবন।

গরমে শিশু ও বয়স্কদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। হাপিত্যেশে কাটছে তাদের সময়। অনেকেই অসুস্থ হয়ে ছুটছেন ডাক্তারের কাছে। গরমজনিত নানান রোগবালাইয়ের উৎপাতও বাড়েছে পাল্লা দিয়ে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়েছে সিলেটের ব্যবসা-বাণিজ্যেও। দোকানপাট, শপিংমল, রেস্টুরেন্ট, বেকারি, মিষ্টির দোকান, ফার্মেসি, ফটোকপি ও কম্পিউটার ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানসহ বিদ্যুৎনির্ভর প্রায় সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেই ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানের ফ্যান, লাইট, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালানো যাচ্ছে না। এতে কাজের গতি কমে যাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকও ফিরে যাচ্ছেন।

এদিকে, শ্রমজীবী মানুষের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। বিশেষ করে কায়িক শ্রমের সঙ্গে জড়িতদের অবস্থা সবচেয়ে বেশী খারাপ। নির্মাণ শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে বিশ্রাম করতে দেখা যাচ্ছে। ঠেলা ও রিকশাচালকদেরও অবস্থা ছিল একই।

এ অবস্থায় আগামী ২৪ ঘন্টার আবহাওযার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিলেট অঞ্চলের কোথাও কোথাও হাল্কা থেকে মাঝারি, কোথাও আবার ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টি বা কোনো কোনো অঞ্চলে বজ্রপাতের আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে।

এসএ/সিলেট