পরিবেশ রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প...
‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে সিলেটে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান...
ছবি সংগৃহীত
ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠক শেষে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। তবে শনিবার থেকে তারা কাজে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বৈঠক করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এরপর ‘সম্মিলিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে আগামী শনিবার থেকে সকল ইন্টার্ন চিকিৎসক কর্মস্থলে যোগদান করবেন’ বলে জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) বিকেলে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক ডা. রাকিন হান্না আনান।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) -এর নেতৃবৃন্দরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার বৈঠকের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে আগামী শনিবার থেকে সকল ইন্টার্ন চিকিৎসক কর্মস্থলে যোগদান করবেন। এ লক্ষ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। আগামী শনিবার এই বিষয়গুলো নিয়ে সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশের কমিশনারের সাথে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) -এর নেতৃবৃন্দের সাথে আলাদা একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, এসময় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশের কমিশনারের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাইনুল জাকির।
বিবৃতিতে বলা হয়, মানবসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের ওপর এ ধরনের সহিংস হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) সংগঠনটি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে চিকিৎসক, ইন্টার্ন চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে হাসপাতাল ও ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অননুমোদিত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরাপত্তা সহায়তা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- চিকিৎসকদের ওপর হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা, হাসপাতাল ও ক্যাম্পাসে স্থায়ী ও জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা এবং প্রয়োজনে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিত করা।
এছাড়া হাসপাতালের ভেতরে বহিরাগত ও ভবঘুরেদের অবাধ প্রবেশ বন্ধ, রোগীর সঙ্গে একজনের বেশি অ্যাটেনডেন্ট প্রবেশ নিষিদ্ধ করা, অ্যাটেনডেন্ট পাস কার্ড ব্যবস্থা কার্যকর করা, হাসপাতালের প্রধান গেটগুলোতে মানুষের চলাচল ও অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য যথাযথ কর্মঘণ্টা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব দাবির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি আরও কঠোরভাবে চলমান থাকবে।
এরআগে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওসমানী হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে ডাক্তারদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে ইনআর্ন ডাক্তার ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সাথে রোগীর স্বজনদের সংঘর্ষ বাঁধে।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, ওইদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে এক শিশুরোগীকে নিয়ে কয়েকজন স্বজন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। এ সময় দায়িত্বে থাকা এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে তাঁদের কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়।
মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের দাবি, রোগীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা বাইরে থেকে আরও লোকজন এনে ওই ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর করেন। খবর পেয়ে অন্য ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে অন্তত ছয়জন আহত হন। পরে তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জরুরি বিভাগে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এসএ/সিলেট