কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী-সন্তানসহ স্বজনদের হারালেন নূর আলম

post-title

নূর আলমের সঙ্গে তার স্ত্রী ও সন্তান। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ জন নিহতের মধ্যে একই পরিবারের ৬ জন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত ওষুধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের জ্যেষ্ঠ বিপণন কর্মকর্তা নূর আলমের স্ত্রী-সন্তান-শ্যালক ও তিন শ্যালিকা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নূর আলম বলেন, ‘স্ত্রী বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ। তারপরও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাতে কক্সবাজার বেড়াতে যান। আমি নিজেও সঙ্গে গিয়েছিলাম। কক্সবাজার পৌঁছানোর পর অফিশিয়াল কাজের প্রয়োজন হওয়ায় আমি শুক্রবার চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসি। শনিবার সকালে গণমাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের খবর জানার পর খোঁজ নিয়ে দেখি নিহত ছয়জনই আমার পরিবারের সদস্য।’

নিহতরা হলেন নূর আলমের স্ত্রী ফারিয়া কবির (৩৩) ও পাঁচ বছর বয়সী সন্তান ফাইজান নূর, শ্যালক নাসির উদ্দিন (২৫) এবং তিন শ্যালিকা ইসরাত জাহান মালিহা ৩০), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩)। নিহত আরেকজন হলেন নাফিসতা মীম (২৭)।

নূর আলমের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বড়কোঠা ইউনিয়নের গাজিরপাড় গ্রামে। কর্মসূত্রে প্রায় আট বছর ধরে তিনি চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত। পেশাগত কারণে সপরিবার চুয়াডাঙ্গা শহরের দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ার একটি বাসায় ভাড়ায় থাকতেন।

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

বেলা সোয়া দুইটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজারের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আরও মরদেহ থাকতে পারে। উদ্ধার অভিযান চলছে।

হতাহতদের স্বজন আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভাগনে–ভাগনিসহ ছয়জন মারা গেছে। আমার তিন বোন। আমি একমাত্র ভাই। আমার তিন বোনের পাঁচ ছেলে-মেয়ে মারা গেছে। বড় ভাগনিরও বাচ্চা মারা গেছে। ওরা ৯ জন বেড়াতে এসেছিল। তিনজন বেঁচে আছে।’

আমিনুল ইসলাম রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা। কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তার পরিবারের ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ খবর শুনে তিনি ঢাকা থেকে উড়োজাহাজে কক্সবাজারে এসেছেন।

শনিবার বেলা দুইটার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সবার ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। গত বৃহস্পতিবার তারা বেড়াতে কক্সবাজার এসেছিল। সকালে যখন আগুন লেগেছিল, তখন তাদের দুজন বাইরে ছিল। এরপর তারাই আমাকে খবর দিয়েছে।’

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শনিবার সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসে আগুনের খবর দেওয়া হয়। সকাল আটটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। চারজন মারা গেছেন তিনতলার দুটি শৌচাগারে।

তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘সমুদ্রের তীব্র বাতাসে কাঠের রিসোর্টে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের স্থাপনায় বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অগ্নিসংকেত, হোসপাইপ ও অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা থাকা দরকার। কিন্তু রিসোর্টটিতে এগুলোর কিছুই ছিল না। ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। মাত্র সাত-আট মাস আগে রিসোর্টটি তৈরি হয়েছিল। জায়গাটির মালিকানা নিয়েও দ্বন্দ্ব ছিল।’

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নূর আলমের পরিবার ছাড়া অন্যরা রাজধানীর বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় থাকতেন। নিহত বাকি তিনজনের নাম–পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ ছয়জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), ইসমাইল হোসেন মাসুদ (৩০) ও তার স্ত্রী মেহেরুন নেছা (২৭), মান্নান (৩৪) ও সামিদা (৩২)।

এসএ/সিলেট