হামলার পর অভিযুক্ত আহাদকে আটক করে পুলিশে দিল জনতা

দোয়ারায় সাংবাদিকের কার্যালয়ে ঢুকে কুপিয়ে জখম, আটক ‘মাদক সম্রাট’

post-title

তাজিদুল ইসলাম

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক এমএ আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আব্দুল আহাদ ভূঁইয়াকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় জনতা।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া বাজারে সাংবাদিক মোতালিবের কার্যালয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আটক আহাদ ওই গ্রামের ইউসুফ ভূঁইয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আহাদ পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকের কার্যালয়ে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এ সময় মাদক ও চোরাচালান নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে তাঁর হাত দিয়ে আর লিখতে পারবেন না—এমন হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। হামলায় সাংবাদিক মোতালিবের ডান হাতের কবজি, কনুইসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।

আহত অবস্থায় সাংবাদিক মোতালিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার শুরু করলে তাঁর চিৎকার ও রক্তাক্ত অবস্থা দেখে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ সময় পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা আহাদকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

স্থানীয়দের দাবি, আহাদ সীমান্ত এলাকায় মাদক, মানব পাচার ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র, হত্যা, অপহরণ ও মানব পাচারসহ একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি একটি ইয়াবা মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য ও মামলার নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার আহাদকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

টিএ/ছাতক