সুরমায় ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ, সংস্কার হবে কিনব্রিজও

post-title

ছবি : সংগৃহীত

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজের পাশে সুরমা নদীর ওপর একটি দৃষ্টিনন্দন ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক কিনব্রিজের সক্ষমতা বাড়ানো ও এটি সংরক্ষণের বিষয়েও কাজ করার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শুক্রবার বিকেলে কিনব্রিজ এলাকা পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী জানান, নতুন সেতুটি নির্মিত হলে তা পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ানোর পাশাপাশি সিলেট নগরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। একই সঙ্গে নগরের সড়কে যানবাহনের চাপ কমাতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, কিনব্রিজ দিয়ে এখন গাড়ি যায় না। তবে নতুন ব্রিজটি ফাংশনাল ব্রিজ হবে। এর জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডির প্রক্রিয়া শুরু হবে। আলী আমজাদের ঘড়িসহ এই এলাকার ঐতিহ্যগুলো ধ্বংস না করে যাতে নতুন সেতু নির্মাণ করা যায় এ ব্যাপারে ফিজিবিলিটি স্টাডি (সমীক্ষা যাছাই) হবে।

নতুন সেতু নির্মাণ হলেও কিনব্রিজকে টিকিয়ে রাখা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কিন ব্রিজের সক্ষমতা বাড়াতে আমরা কাজ করব। একটি ঐতিহ্য হিসেবে এটি টিকিয়ে রাখা হবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন সেতু নির্মাণ হলে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে সিলেটের আকর্ষণ আরও বাড়বে। এর ফলে সিলেটের পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি দেশের কাছে সিলেটের সুনাম আরও উজ্জ্বল হবে।

এ সময় সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ব্রিটিশ আমলে সুরমা নদীর উপর লোহার কাঠামোর দৃষ্টিনন্দন কিনব্রিজ নির্মাণ করা হয়। টানা দুই বছর নির্মাণকাজ শেষে ১৯৩৬ সালে সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন অসম প্রদেশের গভর্নর মাইকেল কিনের নামে এই সেতুর নামকরণ হয় ‘কিনব্রিজ’। প্রায় ৯ দশক ধরে সচল সেতুটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং সিলেট অঞ্চলে সুরমা নদীর ওপর প্রথম সেতু। এর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ১৫০ ফুট এবং প্রস্থ ১৮ ফুট।

লোহার এই সেতু দীর্ঘদীদিন ধরে জরাজীর্ন অবস্থায় আছে। বন্ধ রয়েছে ভারী যান চলাচল।

কিনব্রিজের পাশে একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের দাবি সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের। সাবেক স্পিকার হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী কিনব্রিজের পাশে একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়েছিলেন।

চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সিলেট-১ আসনের তৎকালীন সাংসদ ও অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান কিনব্রিজ ভেঙে এই স্থানে নতুন একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তবে সে সমসয় ঐতিহ্য হিসেবে কিনব্রিজটি না ভাঙার দাবি উঠে।

জানা যায়, স্বপ্নের সেই সেতু বাস্তবায়নে এগিয়ে এসেছিল বিদেশি সংস্থা ‘নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি)’। প্রকল্পে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছিল ব্যাংকটি। কিন্তু এপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জায়গা নেই এমন অজুহাতে ঝুলন্ত সেতুর প্রকল্প পরবর্তীতে বাতিল করা হয়।

এরপর ২০২২ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. একে আব্দুল মোমেন সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজের পাশে আরেকটি সেতু নির্মান করা হবে বলে জানান। তবে সে উদ্যোগও আর এগোয়নি।

এসএ/সিলেট