সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কে দৃশ্যমান হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন আর্চ সেতু

post-title

ছবি সংগৃহীত

শান্তিগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ৫০ কিলোমিটারে নির্মাণাধীন দৃষ্টিনন্দন আর্চ সেতুর অবয়ব এখন দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। সেতুটির নির্মাণকাজ এগিয়ে যাওয়ায় বদলে যাচ্ছে মহাসড়কের দৃশ্যপট।

স্থানীয়দের পাশাপাশি সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যেও সেতুটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কটি সুনামগঞ্জ জেলার সঙ্গে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের সঙ্গে সিলেটের সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। ফলে এ মহাসড়কের অবকাঠামোগত উন্নয়ন স্থানীয় যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে নাইন্দা নদীর উপর নির্মাণাধীন আর্চ সেতুর বিভিন্ন অংশের কাজ এগিয়ে চলছে। সেতুর কাঠামো ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে। কাজ দেখতে অনেকেই সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে সময় কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্মাণকাজ শেষ হলে সেতুটি শুধু যান চলাচলকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করবে না, মহাসড়কের সৌন্দর্যও বাড়াবে।

সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ৫০ তম কিলোমিটারে সদরপুর নামক স্থানে নির্মাণ হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন আর্চ সেতু। ১৪১.৬০ মিটার দৈর্ঘ্য এ সেতুতে স্প্যান থাকবে ৩টি। ফুটপাতসহ সেতুটির প্রস্থ থাকবে ১৩.৪০ মিটার।

যার নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫১ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা। ডাবল লেন মাল্টি স্প্যান স্টিল আর্চ ধরণের এ সেতুর মূল ক্যারিয়েজ থাকবে ১০.৩০ মিটার ও দুই ফুটপাতে প্রস্থ থাকবে ১.৫৫ মিটার করে। আবদুল মোনেম লিমিটেড এন্ড ওহিদ্দুজ্জামান চৌধুরী জয়েন্ট ভেনচার নামক টিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করছে এ সেতুটি।

এছাড়াও সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের শান্তিগঞ্জ অংশে অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজও চলমান রয়েছে। বিশেষ করে শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৭৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয় ধরে এ উন্নয়নকাজ নেওয়া হয় এবং ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগ জানিয়েছে, জেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ ও সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে।

এদিকে, সদরপুর সেতুটিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। সেতু এলাকাকে ভবিষ্যতে একটি দৃষ্টিনন্দন পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনা বিদ্যমান রয়েছে। তবে এজন্য সেতুর সৌন্দর্য রক্ষা, নিরাপদ যান চলাচল, পথচারীদের সুবিধা এবং পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শান্তিগঞ্জের মিনিবাস চালক সিদ্দিক আহমদ  বলেন, সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও পণ্যবাহী যান চলাচল করে। এ সড়কের উন্নয়ন হলে সুনামগঞ্জের সঙ্গে সিলেটের যোগাযোগ আরও সহজ ও নিরাপদ হবে। পাশাপাশি আগামীতে আরো নতুন সেতু ও আঞ্চলিক সড়কটি মহা সড়কে উন্নীত হয়ে চার লেনের সড়ক বাস্তবায়িত হলে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন তারা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্মাণাধীন আর্চ সেতুর কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে শেষ হবে। একই সঙ্গে সেতু ও আশপাশের এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধন, আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে এটি শান্তিগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি একটি আকর্ষণীয় স্থাপনাতেও পরিণত হতে পারে।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. আহাদ উল্লাহ বলেন, সেতুটি একটি দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো। হাতিরঝিলের আদলে স্টিল স্ট্রাকচারের আর্চ ডিজাইনের কারণে সেতুটি অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন হবে। ১০০ মিটার সিঙ্গেল স্প্যান স্টিল আর্চের কাজ শেষের পথে। বর্তমানে আর্চ সেকশনের কাজ চলছে, যা শেষ হলেই আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।

এসএ/সিলেট