# মৃতের সংখ্যা ১২৫ # নমুনা পরীক্ষায় নেই ল্যাব

সিলেটে হামের সংক্রমণ ভয়াবহ, প্রতিরোধে নেই বিশেষ পরিকল্পনা

post-title

ছবি: সংগৃহীত

সিলেট বিভাগে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বিভাগে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ১২৫ জনে পৌঁছেছে। হাসপাতালে প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী ভর্তি হলেও কার্যকর টিকাদান ও প্রতিরোধমূলক বিশেষ কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দৃশ্যমান নয়। এছাড়া নমুনা পরীক্ষার স্থানীয় সুবিধা না থাকায় রোগ শনাক্ত ও বিস্তার রোধের লড়াইটি চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে দ্রæত হাম পরীক্ষা কেন্দ্র চালুর দাবি জানিয়েছে বিভিন্নমহল। তারা বলছেন- জনস্বার্থে ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সিলেটে ল্যাব স্থাপন করা জরুরি।

সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য)-এর কার্যালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহভাজন হাম রোগে মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে রয়েছে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ এলাকার সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশু, যার মৃত্যু হয় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। হবিগঞ্জের বানিয়াচং এলাকার ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর মৃত্যু হয় হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে। এছাড়া সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ এলাকার আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয় শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে।

এদিকে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারী থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৮২৭ জন নিশ্চিত হাম রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। জেলাভিত্তিক হিসাবে সিলেটে ২৭১ জন, হবিগঞ্জে ১০৩ জন (এর মধ্যে দুজন রুবেলা আক্রান্ত), মৌলভীবাজারে ১০২ জন এবং সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ ৩৫১ জন আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহভাজন উপসর্গ নিয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯১ জন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে ২৫ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫১ জন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৫ জন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৭ জন ভর্তি হয়েছে।

বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহভাজন হাম রোগী ভর্তি রয়েছে মোট ২৭১ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে, ১২১ জন। এছাড়া ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬২ জন, রাগিব-রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ১১ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৬ জন, গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যথাক্রমে ৫ ও ২ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৪১ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২১ জন ভর্তি রয়েছেন।

এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিভাগের চার জেলায় মোট মৃত্যুর (সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে) সংখ্যা ১২৫ জনে পৌঁছেছে। যার মধ্যে- সিলেটে ৪৪ জন, হবিগঞ্জে ১৬ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন এবং সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে মোট ৬ জনের।

শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা জানান, রোগীদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় সব ওষুধ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা হচ্ছে। সংক্রমণ রোধে হাসপাতাল সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিলেও ল্যাব না থাকায় রোগ নির্ণয়ে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে।

হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, এই বিষয় নিয়ে খুব চিন্তি আছি। মাঠ পর্যায়ে আমাদের কার্যক্রম চলছে। মাঠকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বা ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ঠিকা প্রদান করছে। এরপরও রোগের প্রার্দুভাব কমছেনা। তাছাড়া রোগ খারাপ পর্যায়ে যাওয়ার পর রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হয়। এতে এ রোগের সাথে অন্য রোগেরও অনেক সময় যোগসূত্র থাকে। পরে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হই।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত সংগ্রহ করে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঢাকা মহাখালীতে পাঠানো হয় এবং এর চ‚ড়ান্ত ফলাফল পেতে সর্বনিম্ন সাত দিন সময় লাগে।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি ইন্টারভিউ বোর্ডে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।




কাওছার আহমদ