কানাইঘাটে নিরুপায় হয়ে নিজের জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করালেন বৃদ্ধ

post-title

ছবি সংগৃহীত

কানাইঘাটে দখলদারদের কবল হতে নিজের ফসলী জমি রক্ষা করতে আদালতের ধারস্থ হয়েছেন মকদ্দস আলী মানিক নামের এক নিরীহ বৃদ্ধ। উপায় না পেয়ে নিজের দখলীয় জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করান তিনি। মকদ্দুস আলী মানিক উপজেলার লক্ষীপ্রসাদপূর্ব ইউনিয়নের বাজেখেল গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের পুত্র।

জানা যায়, সতিপুর মৌজার এসএ ১৯ ও ১১ নং দাগে কয়েক একর ফসলী জমির বিভিন্ন মালিকগণ রয়েছেন। এদের মধ্যে আকদ্দছ আলী মানিকগং মৌরসী সূত্রে এসএ রের্কড অনুযায়ী ১৯ ও ১১ দাগে সাড়ে ৮৪ শতক জমি শত বছর থেকে তার পরিবার শান্তিপুর্ণ ভাবে ভোগ দখল করে আসছেন। উক্ত জমির এসএ মালিকদের যে সকল উত্তরাধিকারীগণ ছিলেন বা আছেন তারা সর্বসম্মতিক্রর্মে পূর্বে আপোষ ভাটোয়ারা অনুযায়ী ভোগ দখল করছেন।

সেই আপেষ ভাটোয়ারা অনুযায়ী মকদ্দছ আলী মানিকগং বর্তমান হাল ১৩ ও ১৪ দাগে সাড়ে ৮৪শতক জমি এবং মুজিব আহমদ নামের একজন তাহার হিস্যা অনুযায়ী ১৫নং দাগে ৫০শতক জমি ভোগ দখল বুঝে নিয়েছেন। এরপর মুজিব আহমদ, লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের উত্তর লক্ষীপ্রসাদ গ্রামের শফিকুর রহমানের পুত্র কবির আহমদের কাছে ২৫শতক জমি বিক্রি করে দেন। কবির আহমদ দলিল অনুযায়ী তা নামজারী করিয়ে নিয়ে মুজিবের দখলীয় ১৫ দাগে ভোগ দখল করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে হঠাৎ করে কবির আহমদ ১৫নং দাগে তাহার ঐ দখল বহাল রেখে দলিলের দোহাই দিয়ে ১৪নং দাগে মকদ্দছ গংদের দখলে থাকা জমি হতে আরো ২৫ শতক জমি জোরপূর্বক দখলের অপচেষ্টা করে যাচ্ছে।

এছাড়াও ঐ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে পাশর্^বর্তী মেছা গ্রামের ইলিয়াছ আলীর পুত্র জালাল আহমদ আপোষ ভাটোয়ারা অনুযায়ী তাহার হিস্যা বুঝে নিয়ে বর্তমান ১৫দাগে ১০ শতক জমি রের্কডের দোহাই দিয়ে মকদ্দস গংদের কাছ থেকে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছে। এতে উপায় না পেয়ে নিরীহ মকদ্দস আলী মানিক বাধ্য হয়ে আদালতে গিয়ে দখলদারদের কবল থেকে উক্ত জমি রক্ষা করতে গত ১৫ জুন বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে নিজের জমিতেই ১৪৪ ধারা জারী করান।

এরই প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত সাড়ে ৮৪ শতক ভুমি কার দখলে রয়েছে তাহার সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও কানাইঘাট থানা পুলিশকে নির্দেশনা প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশে কানাইঘাট সদর ভুমি অফিসের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে তদন্ত করেছেন। সদর ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা শিপুল কুমার দে জানান আদালতের নির্দেশে সরেজমিন তদন্ত করা হয়েছে, শ্রীর্ঘই তার প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। অপরদিকে থানার এসআই রাসেল মিয়া জানিয়েছেন, উভয় পক্ষকে উল্লেখিত ভুমির বিষয়ে স্থিতাবস্থা ও শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে সরেজমিন তদন্ত করা হয়েছে। দ্রুত আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।     


এসএ/সিলেট