রাহিমার বাবার আহাজারি

‘ভোরে তাকে গাড়িতে তুলে দিলাম, সেটাই শেষ যাত্রা হবে ভাবিনি’

post-title

ছবি সংগৃহীত

সিলেটের ওসমানীনগরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ১৯ বছর বয়সী মাদ্রাসা ছাত্র আরমান হোসেন রাহিমের লাশ নিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবাব।  কিছুক্ষণ পরপর জ্ঞান হারাচ্ছিলেন বাবা-মা দুজনই। দুপুরে সিলেটের শেরপুর হাইওয়ে থানায় তাদের বুকফাটা আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।

নিহত আরমান হোসেন রাহিম কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তার বাবা রফিকুল ইসলাম সিলেটে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। দুই ছেলের মধ্যে রাহিম বড়। ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ছিল তার। রাহিম সিলেটে শাহপরান জামেয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা থেকে হিফজ সম্পন্ন করার পর ঢাকার ডেমরার নরাইবাগ ইসলামিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। মাদ্রাসায় যাওয়ার জন্য শুক্রবার ভোরে বাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ইউনিক পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন তিনি। কিন্তু ঢাকায় আর পৌঁছানো হয়নি রাহিমের।

এদিকে, শুক্রবার (৭ আগষ্ট) সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে রাহিমসহ অন্তত নয়জন নিহত হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাহিমের বাবা সিলেট থেকে শেরপুর হাইওয়ে থানায় ছুটে যান। তার মা কুমিল্লা থেকে সেখানে আসেন। দুপুরে থানায় ছেলের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী। বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন তারা।

সেখানে উপস্থিত লোকজন তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।  রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার দুই ছেলের মধ্যে রাহিম বড়। সে শাহপরান মাদ্রাসা থেকে হাফিজি শেষ করে। ঢাকার একটি মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। ভোরে তাকে গাড়িতে তুলে দিলাম, সেটাই শেষ যাত্রা হবে ভাবিনি।’ রাহিমের স্বজনেরা জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষাতেও তার আগ্রহ ছিল। পরিবারের আশা ছিল, পড়াশোনা শেষ করে তিনি ভালো কিছু করবেন। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা মুহ‚র্তেই সেই স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে।


এসএ/সিলেট