সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর হক-কে সংবর্ধনা

সিলেটের উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে আরও ব্যাপকভাবে কাজ করতে চাই: জাহাঙ্গীর হক

post-title

ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের সারে’র মোল ভ্যালি ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের সাবেক মেয়র, দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর, ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স (বিবিসিসিআই)-এর পরিচালক ও বিশিষ্ট সমাজসেবক জাহাঙ্গীর হকের সম্মানে প্রবাসী বিষয়ক মতবিনিময় ও সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সিলেট নগরীর অভিজাত ‘গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল’-এ ‘জাস্ট হেল্প ফাউন্ডেশন’ ও ‘লায়ন্স ক্লাব অব সিলেট সুরমা’-এর যৌথ উদ্যোগে এই জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের অসামান্য অবদান, বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের সুদৃঢ় সম্পর্ক, বিনিয়োগের পরিবেশ, শিক্ষা, সমাজসেবা এবং সিলেটের সার্বিক উন্নয়নসহ নানা দিক নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সামাজিক উন্নয়নে প্রবাসীদের ভূমিকা অপরিসীম। প্রবাসীদের অর্জিত অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগকে দেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজে লাগাতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে সংবর্ধিত অতিথি জাহাঙ্গীর হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে জনসেবা ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকলেও আমার হৃদয়ে প্রিয় জন্মভূমি সিলেটের প্রতি ভালোবাসা সবসময়ই ছিল। কর্মময় জীবনের পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন চ্যারিটি ও মানবকল্যাণমূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি। ভবিষ্যতে সিলেটের উন্নয়ন, শিক্ষা এবং মানবকল্যাণে আরও ব্যাপকভাবে কাজ করতে চাই।

তিনি তাঁর দীর্ঘ সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, তিনি বিগত ১৬ বছর ধরে কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ইতিপূর্বে মেয়রের দায়িত্বও সফলতার সাথে শেষ করেছেন। বর্তমানে তিনি বিবিসিসিআই-এর পরিচালক এবং জাস্ট হেল্প ফাউন্ডেশনের লাইফ মেম্বারসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সেবামূলক সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন।

ব্যবসার পাশাপাশি সমাজকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিশেষ করে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তাঁর বেশ কিছু বড় পরিকল্পনার রয়েছে। এছাড়া নতুন প্রজন্মের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান এবং স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রবাসীদের সহযোগিতা ও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সিলেটকে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও মানবিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উইমেন্স চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি লুবানা ইয়াসমিন, জাস্ট হেল্প ফাউন্ডেশনের পক্ষে ফেরদৌস আলম, লায়ন্স ক্লাব অব সিলেট সুরমার পক্ষে নাজনীন বেগম, বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহিত চৌধুরী ও ইকরামুল কবীরসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়িক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবর্গ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সংবর্ধিত অতিথি ও উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে এক প্রীতি বুফে ডিনারের আয়োজন করা হয়। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পারস্পরিক মতবিনিময় ও নৈশভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি ঘটে।

এসএ/সিলেট